<< দ্বৈত নাগরিকদের দেশে ভোটার হতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সনদ লাগবে না

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নাগরিকত্ব থাকার পরেও দেশে ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সনদের প্রয়োজন নেই। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের নির্বাচন সহায়তা-২ শাখা থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতদিন অন্য দেশের নাগরিকত্ব নেওয়া বাংলাদেশিদের দ্বৈত নাগরিকত্ব নিতে হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অনুমতির প্রয়োজন হতো। ইসির এ আদেশের মাধ্যমে দ্বৈত নাগরিকত্ব নেওয়া বাংলাদেশিদের ভোটার হওয়ার পথ সহজ করা হল।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে জারিকৃত ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর দেওয়া দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ দেওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু কাজী হাবিবুল আউয়াল নেতৃত্বাধীন ইসি দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ২০১৮ সালের স্মারকটি বাতিল করা হলো।

ইসি আদেশে জানিয়েছে, ‘দ্যা বাংলাদেশ সিটিজেনশিপ (ট্যাম্পরারি প্রোভিশনস) অর্ডার, ১৯৭২ (পি.ও. নং. ১৪৯ অব ১৯৭২) এর আর্টিকেল ২বি (২)-তে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সময়ে সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পরিপত্র জারি করা হয়েছে। পরিপত্র অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য, উত্তর আমেরিকা (যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা), নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণকারী বাংলাদেশের নাগরিককে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য বাংলাদেশ সরকারের নিকট হতে দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ দাখিলের প্রয়োজন হবে না। এছাড়া, হংকং, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের নাগরিকত্ব গ্রহণকারী বাংলাদেশের নাগরিককেও বাংলাদেশ সরকারের নিকট হতে দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ গ্রহণের প্রয়োজন হবে না।’

‘দ্যা বাংলাদেশ সিটিজেনশিপ (ট্যাম্পরারি প্রোভিশনস) অর্ডার, ১৯৭৮ এর রুল ৪ এর সাব-রুল (১এ) অনুযায়ী, বৈবাহিকসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব অর্জনকারী বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নাগরিকত্ব সনদ দাখিল করতে হবে। এছাড়া, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। তারা যেন কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকার নির্দেশনা দিয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।